লেখক- রেনেকা আহমেদ অন্তু
“ক” নামক কাজটা ভালো না। সকল মানুষই তা জানে,সকল ধর্মেও তা আছে। তবে তাই বলে কি ব্যাপারটা এতোটাই সোজা?
মোটেও না! কারন বাংলাদেশে “ক” খারাপ কাজ হলেও তার সাফাই করার চল আছে। কেও পোশাকের দোহাই দিবে কেও চালচলনের! কেও বা প্রকাশ্যে বলবে যে বেলাহাজদের সাথে “ক” কাজ ঘটে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক! অর্থাৎ অতি সূক্ষ্মভাবে “ক” কাজের বৈধতা হয়ে গেলো!
কেও বলবে অমুক বাড়ির, প্রতিষ্ঠানের,সম্প্রদায়ের কারো সাথে “ক” কাজ ঘটলেই এতো মাতামাতি! কই সংখ্যালঘু আর কম ক্ষমতাসীন জায়গার মানুষের সাথে ঘটলে তো মাতামাতি নাই বাঙ্গালির! মানে এখানে সূক্ষ্মভাবে বাংগালীর ঐকতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি হয়ে গেল। কেও তবুও “ক” কাজকে সোজাসাপটা করে ‘অবৈধ’ ঘোষণাতে কিন্তু আগ্রহ দেখালো না। মানে সর্বসাধারণের কাছে নিকৃষ্ট “ক” কাজ এখনো সমাজে চলমানে বাধাগ্রস্ত হলো না।
কেও বলবে অমুকের কিঞ্চিৎ চরিত্র নিয়ে কথা ওঠায় এক জাগরণী সমাজ মোমবাতি,র্যালি,সভা,সেমিনার করে উদ্ধার! কই এবারের ঐ “ক” কাজ নিয়ে তো তারা কিছু বলল না এখনো!
মানে ঘটনা এখানে দাড়ালো যে প্রতিবার যদি সম গুরুত্ব দিয়ে তুমি প্রতিবাদ না করতে জানো,তবে বস্তুত তোমার সকল প্রতিবাদই খেলো! এবারো “ক” কাজ নিয়ে কোন সোজাসাপ্টা প্রতিবাদ নয় বরং অন্য কোন বিশেষ ‘প্রতিবাদী’ গোষ্ঠীর মুণ্ডপাত করতেই বাঙ্গালী মসগুল!
কেও বলবে অমুক সংগঠনের মানুষ “ক” কাজ করেছে! ওরা পিসাচ, নরখাদক হায়না প্রভৃতি! তথা এবার “ক” কাজের থেকে “ক” কাজে লিপ্ত থাকা ব্যক্তির বিশেষ কোনো পরিচয়ের পিছনে বুলেট ছড়া দিয়ে বাঙ্গালির নাভিশ্বাস উঠে যাবার উপদ্রব। “ক” কাজ নিয়ে এবারো সম্মলিত কোনো ধিক্কার এলো না।
কেও কেও আবার “ক” কাজে লিপ্ত থাকা ব্যাক্তির সাথে নিজেরও কোনো পরিচয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় “ক” কাজ বাদ দিয়ে নিজের সেই “নির্দিষ্ট” পরিচয়ের সাফাই দিতেই ব্যস্ত। তাই এবারো “ক” কাজটাই লাইমলাইট হীনতায় ভুগলো!
কেও কেও “ক” কাজের জন্য অংগহানীর প্রস্তাব দিতে দিতে বেহুস! কেন আদৌতে মনুষ্য সমাজের শিক্ষিত কোন এক প্রানী “ক” কাজ করছে, দেশের মানবিক শিক্ষায় কি আদৌতে কোন বিশাল গরমিল আছে কিনা তা নিয়ে ভাবলো না। মানে “ক” কাজ এখনো টেনশনমুক্ত!
কেও কেও আবার কেবল কলম,কিবোর্ড দিয়ে জাতি বদলাতে ব্যস্ত! তারা নিজের মতপ্রকাশের অধিকার চর্চাতে এতোই মাতামাতি করছে যে, “ক” কাজের মুন্ডুপাত অপেক্ষা তাদের অধিকার চর্চার বাড়তি আলাপের আওয়াজই বেশি আসছে সমাজে!
সুতরাং, “ক” কাজের এবারো লাইমলাইট পাইয়াও হইলো না পাওয়া টাইপ দশা!
কেও কেও আবার আমার মতো “ক” কাজের আসল পরিচয় দিয়েও কথা বলতে দ্বিধায় থাকে! অর্থাৎ এদের দ্বারা যে “ক” কাজের বিরুদ্ধে রাতারাতি কোন ব্যবস্থা সম্ভব না এটা তো দিব্যি পরিস্কারই বলা যায়! বস্তুত এ গোত্রের মোরা রবি ঠাকুরের বোতাম আটা ভদ্রলোকসমাজের জীব।
এতো কিসিমের মানুষের ভীড়েও; খুব কম কিছু মানুষ আজো দৃঢ়তার সাথে “ক” কাজের পরিসংখ্যান ও আইন কানুন নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এরা সমাজের পচে যাওয়া বিচ্ছিরি গোড়াকেও মাঝে মাঝে ঝাটার বাড়ি দিয়ে সুস্থ করবার জন্য জীবন দিয়ে সচেষ্ট থাকছে! হয়তো এজন্যই এখনো “ক” কাজের ব্যাপ্তি প্রতিটি অনাগত কিংবা বেঁচে থাকা নারীকুলের জীবনে ছড়িয়ে যায় নি!
আমি সাধুবাদ জানাই ২০কোটি মানুষের দেশের তেমন মহামানবদের! আপনারাই কেবল পারবেন “ক” কাজের মতো ঘৃণ্যতম কাজকে আসলেও সকলের কাছে জাত,মত সব কিছুর উর্ধ্বে তুলে ঘৃণীত ভাবার বিশ্বাসে অভ্যস্ত করতে! আপনারা বেঁচে থাকুন প্লিজ! ধর্ষিত “বাংলা” মায়ের আসলেও আপনাদের মতো বীরসন্তানদের ছাড়া আর কেও নেই। তার সংসার আজ কুলাংগারে সয়লাব! আপনারা বিনে বাংলা মা আজ যে একেবারেই অসহায়।