সমাজে নারী-পুরুষের সমতা আনতে হলে লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে হবে ,এবং তা করার জন্য ন্যায্যতার নীতি অনুসরণ করতে হবে।লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা বলতে, এমন একটি অবস্থাকে বুঝায় যেখানে নারী ও পুরুষ সকল ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে, বিধিবদ্ধ সকল অধিকার পাবে ক্ষমতা মর্যাদা ও কর্তৃত্বের প্রশ্নের উভয়ের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত পারিবারিক, জাতীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে উভয় সমানভাবে অবদান রাখতে, এবং তার সুফল সমান ও স্বাধীন ভাবে ভোগ করতে পারবে।লিঙ্গ ভিত্তিক ন্যায্যতা বলতে, নারী বা পুরুষের প্রতি সুবিচার ও ন্যায্যতা বিধানের প্রক্রিয়াকে বুঝায় সুযোগ- সুবিধা পাবার ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ যে কেউ পিছিয়ে থাকতে পারে, বা সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে । এই অসম অবস্থায় সমতা আনার জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণের বাধা গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে উভয়ের জন্য সমান সুফল নিশ্চিত করায় লিঙ্গ ভিত্তিক নেতার মূল লক্ষ্য। আমাদের সমাজে নারী যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছে তাই ক্ষেত্রবিশেষে নারীর জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা থাকা দরকার হতে পারে। যেমন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা বিভিন্ন কাঠামোয় সংরক্ষিত পদ প্রবর্তন ইত্যাদি। ন্যায্যতা বিধানের এই প্রক্রিয়াকে অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশন বা ইতিবাচক উদ্যোগ বলা হয়।লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রম বিভাজন: লিঙ্গ পরিচয়ের নারী পুরুষ বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হবার কারণে তাদের মধ্যে শ্রমবিভাজন করা হয়। তাই, লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রম বিভাজন এই শ্রম বিভাজন প্রাকৃতিক বা জৈবিক নয় সম্পূর্ণ সামাজিক। লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রম বিভাজনের কারণে দক্ষতা ও লিঙ্গ ভিত্তিক হয়ে পড়ে, তাতে অন্য ধরনের কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না বা বেছে নিতে দেওয়া হয় না। এ ধরনের শ্রম বিভাজন কারো,কারো জন্য হয়ে পড়ে বৈষম্যমূলক যা বিদ্যমান অধস্তন অবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে । লিঙ্গবিভাজিত শ্রম/কাজ তিন ধরনের:
*উৎপাদন মূলক কাজ
*পুনরুৎপাদন মূলক কাজ (গার্হস্থ্য ও প্রজনন)
*সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজ।
বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে সারাবিশ্বে ৬৫-৭০ শতাংশ কাজ করেন নারীরা । কিন্তু তারা আয় করে মাত্র ১০ শতাংশ এবং তারা বিশ্বের মোট সম্পদের মাত্র ০১ শতাংশের মালিক। রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক, সামাজিক সকল ক্ষেত্রেই নারী অধস্তন এবং পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছে। নারী পুরুষের সমতা আনতে হলে, লিঙ্গ ভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে হবে, এবং তা দূরকরবার জন্য ন্যায্যতার নীতি অনুসরণ করতে হবে।