বিশ্বে গ্রামীণ নারী ও তাদের অবস্থান

পৃথিবীতে নারীর অবদান পুরুষের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। গ্রামীণ নারীর অবদান কোন অংশে কম নয় বরং আরও বেশি।বর্তমানে নারীদের সামাজিক অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের চেয়ে নারীরা এখন কিছুটা হলেও স্বাবলম্বিতা পেয়েছেন। কিন্তু গ্রামীণ নারীদের অবস্থান আগের চেয়ে খুব একটা পরিবর্তিত হয়নি। তাদের কাজের মূল্যায়ন আগেও করা হয়নি এখনও করা হয় না


গ্রামীণ নারীরা সারাদিন সংসারের কাজকর্ম করে থাকেন। ঘর মোছা, ঘর গোছানো, স্বামী-সন্তান-শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের দেখভাল করা, রান্না বান্না করা, পশু পালন করা ইত্যাদি। পাশাপাশি কৃষিকাজেও পুরুষদের সহযোগিতা করে থাকেন। কিন্তু তাদের কাজকে কখনোই কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় না।গ্রামীণ নারীরা তাদের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পায়নি আজও। অনেকেই বলেন নারী অর্থোপার্জন হয় এমন কাজে অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু পশুপালন, কৃষিকাজ এসব থেকে অর্থ আসলেও সেসবে নারীর নিজের অধিকার থাকে না কখনোই। স্বামী বা পরিবারের কর্তাই সেই অর্থের আসল দাবিদার হয়ে যান। এবং সে অর্থ নারীকে দেয়া হয় না। সে পরা মুখাপেক্ষী হয়েই জীবন কাটায়।


গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। কারণ নারীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। হয়ত তারা জানেই না তাদের অধিকার কি? সংসারে পুরুষ উপার্জন করে বলে পুষ্টিকর খাবার, ভাল খাবার তাদের ভাগেই দেয়া হয়। তাই নারী অপুষ্টিতে ভোগে। এদিকে সন্তান জন্মদান, প্রতিমাসে ঋতুস্রাবের কারণে শারীরিক সুস্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেয়ার বিশেষ প্রয়োজন থাকলেও নারী সেই অনুযায়ী খাবার, চিকিৎসা পায় না।এরকম আরও অনেক অধিকার আছে যেগুলো থাকে বঞ্চিত গ্রামীণ নারীরা। গ্রামীণ নারীরা যেন ভাল ভাবে বাঁচতে পারে, সমাজে আর সবার মত চলতে পারে তার জন্যই গ্রামীণ নারী দিবস সারাবিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। গ্রামীণ নারী তার অধিকার ফিরে পাবে এই প্রত্যাশা সকলের।


লেখক- উম্মে কুলছুম সভাপতি উইমেন পিস ক্যাফে বেরোবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *