রোজকার জীবনে বিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। আমরা চাইলেও কি এ থেকে বের হতে পারবো?আমাদের একটা দিনও কি বিজ্ঞান এর আবিষ্কার গুলো ছাড়া চলে? আমরা বিজ্ঞানের এর যান্ত্রিক আবিষ্কারের বাইরে নিজেকে কল্পনা করতে পারিনা৷ তাহলে কীভাবে ভাবতে পারি,বিজ্ঞান শুধুমাত্র বিভাগভিত্তিক হয়ে থেকে যাক। বিজ্ঞান বিভাগ ভিত্তিক নয় বরং হয়ে উঠুক সর্বজনীন।– বিজ্ঞান বলতে আমরা কি বুঝি?ল্যাটিন শব্দ সায়েনটিয়া (scientia) থেকে ইংরেজী science শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে জ্ঞান। ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য,পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য তার সুশৃংঙ্খল নিয়মতান্ত্রিক গবেষনা ও সেই গবেষনালব্ধ জ্ঞান ভান্ডারের নাম বিজ্ঞান।-এখন যে প্রশ্নটা আসে শুধুমাত্র বিভাগ ভিত্তিক হিসেবে কি বিজ্ঞান চর্চা করা যায়?আদৌ কি সম্ভব? এ করলে এটা কি কুক্ষিগত, কিংবা সীমারেখায় আটকে যায় না? এই যে আমাদের বিভাগভিত্তিক পড়াশোনা গুলো-মানবিক,সায়েন্স, কমার্স এগুলো সবগুলোই বিজ্ঞানের সাথে জড়িত নয়?পরোক্ষ কিংবা পরোক্ষ মোটামুটিভাবে সবই বিজ্ঞানের আওতাধীন।বিজ্ঞান চর্চার মতো বিশাল এক বিষয়কে যখন আপনি আর আমি সীমারেখায় বেঁধে দিবো-তখন কি সেটা বিজ্ঞানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে না?কিংবা বিশেষগোষ্ঠীর (মানবিক,কমার্স) সাথে অবিবেচক হবে না?আজ বিজ্ঞানের সাথে আমরা আষ্টেপৃষ্টে জড়িত। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানির জন্যে আমরা বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরশীল,রান্নারজন্যে গ্যাসের উপর।একদিনও বিজ্ঞান ছাড়া যায় না।কিন্তু আদিমকালে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখলো, তখন সকলে আগুন জ্বালানো শিখে গেল।তখন কিন্তু তারা বিজ্ঞান শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল না।তারা অজান্তেই বিজ্ঞানকে সর্বজনীন করে ফেলেছিল। তারপর, অনেক এমন বিজ্ঞানী আছেন যারা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী না হয়েও বিজ্ঞান চর্চা করেছেন স্বতস্ফুর্তভাবে। তারা অনেকে হয়তো পেশাজীবি জীবনে শিল্পী,গায়ক,শিক্ষক ছিলেন।তারপর তারা ধীরে ধীরে নিজের আনন্দে আবিষ্কারের নেশায় বিজ্ঞানের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন।আমাদেরকেও দিয়েছেন নানা উপভোগ করার বিষয়বস্তু। জীবনকে করেছেন সহজ -সরল।তখন যদি তারা বিভাগ নিয়ে মাতামাতি করতেন আমরা হয়তো অনেক গুণী মানুষ হারিয়ে ফেলতাম। জীবন এতোটাও উপভোগ্য হয়ে উঠতো না। আমরা বিভাগ দিয়েই বিজ্ঞান চর্চা আটকে অনেক অপার সম্ভাবনা নষ্ট করি যারা হয়তো নিজেকে আবিষ্কার করতো নতুন রূপে।তাই আমি মনে করি বিজ্ঞান চর্চা হোক সর্বজনীন , বিভাগভিত্তিক নয়।আনন্দে, স্বতস্ফুর্ত ভাবে সবাই বিজ্ঞান চর্চার জোয়ারে ভাসুক।
লেখক – সাদিয়া সাবাহ্, নৃবিজ্ঞান বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।