নারী, শব্দটা শুনলেই কেমন যেন থমকে যাই।কি লিখবো বুঝে উঠতে পারি না।যাকে বলে ভাষা খুঁজে পাই না।আমিও একজন নারী।পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারী! নারী মা,নারী বোন,নারী স্ত্রী, নারী প্রেমিকা। আবার এই নারীই পতিতা।হ্যাঁ,নারী পতিতা।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী পতিতা আর যারা পতিতালয়ে যায় তারা কিন্তু দেবতা!আর দেবতাদের কোনো দোষ থাকে না। নারী সৃষ্টি,নারী সুখ, নারী শান্তি, নারী শক্তি আবার এই নারীই দুর্বল,সবচেয়ে দুর্বল।জগতে যত দুর্বল জিনিস আছে তা নারীর সাথেই তুলনীয়। নারী রমণী,নারী ললনা,নারী মহিলা আবার এই নারীই ধর্ষিতা।হ্যাঁ,নারী ধর্ষিতা।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেউ ধর্ষক নয় তবে নারী ধর্ষিতা।নারী ধর্ষিতা শুধু পুরুষ দ্বারাই না,নারী দ্বারাও!হ্যাঁ পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী ধর্ষিতা হলে নারী ধর্ষকও,কোনো পুরুষ একা নয় ধর্ষক। আসলে নারী হয়ে কেউ জন্মায় না,ধীরে ধীরে সমাজ তাদের নারী করে তোলে।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরাই মূলত নারী বানায়।আমি নারী বলে পুরুষকে দোষারোপ করবো তা না আসলে দোষ কারো থাকলে তা নারীরই।মূলত নারীই কারণ নারীর পায়ের শিকলের!নারী ভীতু, তারা যুগের পর যুগ অন্ধকারে থাকতে থাকতে আলোকেই ভয় পেতে শুরু করেছে!তাই তারা আলোতে বের হয় নি এবং এর জন্যই এ প্রজন্মকেও তারা আলোতে ছাড়তে চায় না।আসলে তাদের ভয় পাওয়াটাও অস্বাভাবিক না কারণ এ আলোর আঁধার যে সব ধ্বংস করে দেয়। নারী মমতাময়ী,নারী বিনয়ী,নারী করুণাময়ী। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই করুণাময়ীই সর্বোচ্চ করুণার পাত্র।পুরুষের করুণায়ই নাকি বাঁচছে নারী! এখনও সমাজে নারীরাই চায় না তাদের পেটে একটা মেয়ে আসুক!কিন্তু কেনো?নারীরাই ভেদাভেদ শুরু করে।ছেলের বেলায় সাত খুন মাফ তবে নারী হলেই তার চলন বাঁকা।এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সবই ঠিক,যত দোষ, যত পাপ,যত ভুল সবই শুধু নারীর। প্রধানমন্ত্রীও যে সমাজে একজন নারী সেই একই সমাজে নারী পতিতা, নারী ধর্ষিতা,নারী অবলা,নারী নির্যাতিতা, নারীই বোঝা!আর এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সবাই নিরপরাধ, পাপ শুধুই নারীর। মাঝেমাঝে মনে হয় নারী হয়ে জন্মানোটাই সবচেয়ে বড় পাপ!পেটে থাকা অবস্থায়ই নারীর পেটের ভবিষ্যৎ নারী ভ্রুণটাকে মেরে ফেলা উচিত।তবে আর নারী হয়ে জন্মানোর অপরাধে রোজ রোজ মরতে হবে না কারও। এ মৃত্যু যন্ত্রণা যাতে ভোগ করতে না হয় সেজন্যই হয়তো নারীও চায় না তার পেটে থেকে আরেক নারীর জন্ম হোক।
লেখক- ফারহানা রাহা