আদিকাল থেকেই আলোচনা সমালোচনার মূখ্যপাত্র হলো নারী। এটা আজকের নতুন কোনো কাহিনী নয়। নারীদের সবকাজেই আছে হাজার রকমের সমালোচনা। মনে হয়, কেও মাথার দিব্যি দিয়ে আমাদের সমাজের জাত,সংস্কৃতি ইত্যাদির “সম্মান” রক্ষার ভারর নারীদের কাঁধে দিয়েছেন!
কন্যাশিশু জন্মের আগে থেকে শুরু হয়-বংশের হাল ধরার জন্য পূত্র সন্তান চাই। কিন্তু কন্যাজাতি বিনে যে বংশই এগিয়ে যাওয়া যায় না তা সত্ত্বেও কন্যা সন্তানদের যেন ছেলেশিশুদের মতো ঠাই নাই। আজও বুঝতে পারলাম না সন্তানের ভুমিষ্ট হওয়ার জন্য মাকে কেন দায়ী করা হয়? বাবার সক্ষমতা কিংবা সৃষ্টিকর্তার কথা কি এ সময় এ বাংলার মানুষদের মনে থাকে না ? তাহলে কেন পুত্র সন্তানের মাতা না হতে পারায় নারীর ওপর এতো নিপীড়ন? কন্যাসন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর, এমনি অনেক পরিবারে মেয়ের দায়িত্ব অস্বীকার করতেও সদস্যদের আপত্তি নেই অনেক সময়ই। এমন পরিস্থিতির সাক্ষী আমি নিজেও হয়েছি কয়েকবার।
আজকের দিনে মেয়েরা আর আগের মতো পিছিয়ে নেই। বংশের হাল ধরার জন্য ছেলে নয়,একটা মেয়েও যথেষ্ট হবার যোগ্যতায় উপনীত হচ্ছে হরহামেশাই আজকাল।কিন্তু এই যথেষ্টতা অর্জন করার পিছনে যে হাজারো বঞ্চনার গল্পগুলো লুকিয়ে থাকে,নারীদের যতটা প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হয়, সমাজ কখনোই কোনো ছেলেকে ততটা বাধার সম্মুখীন করে না। তবুও মেয়েরা হার না মেনে এগিয়ে যাচ্ছে।আজকের মেয়ে ভূ-গর্ভস্থ থেকে শুরু করে আকাশযান পর্যন্ত এমন কোনো পর্যায় নেই যেখানে মেয়েরা পিছিয়ে আছে, বরং এগিয়ে আছে। তাই আজ বিশ্বাস নিয়ে বলছি, নারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা এখন আর কেও দমাতে পারবে না। নারীরা আজ বাধা পেরোতে জানছে। সীমার মাঝে থেকেও আমরা একদিন নিশ্চিত বিশ্বের দরবারে সম্মানিত করবোই।