আমি রাহা। কাজ করছি দেশীয় শাড়ি,হ্যান্ডপেইন্ট থ্রি পিস, হাতে বানানো গহনা এবং হোমমেড ফুড নিয়ে। ” আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যেই পোস্টগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তন্মধ্যে এটা অন্যতম একটা পোস্ট।বেশিরভাগ পোস্ট মেয়েদের। ব্যাপারটা দেখতে দারুণ লাগে। প্রতিটা মেয়ে নিজ অবস্থান থেকে সাবলম্বী হবার চেষ্টা করছে।সোশ্যাল মিডিয়াকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে কাজের প্লাটফর্ম তৈরি করে নিয়েছে। স্টুডেন্ট থেকে শুরু করে কর্মজীবী মহিলা এমনকি গৃহিণীরাও একেকজন উদ্যোক্তা হয়ে যাচ্ছে। এখানে উচ্চ বিত্ত,মধ্য বিত্ত কোন ভেদাভেদ নেই। সকলেই চাচ্ছে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। এমনকি তারা যে শুধু নিজের উপার্জনের জন্য কাজ করছে এমনটা না,তারা অন্যের উপকার করার মানসিকতায়ও কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েগুলো নিজ হাতে কাঠের গহনায় নিজ হাতে এঁকে দিচ্ছে নানান রঙের নকশা। অনেকে কাজ করছে শাড়ি নিয়ে, কেও বা আবার রঙ তুলির আঁচড়ে শাড়িকে দিচ্ছে নতুন ছোঁয়া। এতে করে আমাদের দেশীয় পণ্যের কদর আরও বেড়ে যাচ্ছে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও নতুন উদ্যোক্তাদের পন্যগুলোর চাহিদা বেড়ে যাবে খুব শীঘ্রই। গৃহিণী নিজের রান্নার পাশাপাশি রোজ কাস্টমারদের ডিমান্ড অনুযায়ী রান্না করে দিচ্ছে। এতে করে সকলেই মানসম্মত খাবার পেয়ে যাচ্ছে ঘরে বসেই। প্রতিটা মেয়েই হয়ে উঠছে একেকজন উদ্যোক্তা। এমন চলতে থাকলে মেয়েদের পরনির্ভরশীলতা কমে যাবে একদিন। হোস্টেল ভাড়া হোক বা দামী মেকআপের টাকা সে নিজেই জোগাতে পারবে। এমনকি মাস শেষে প্রিয় বাবাকে গর্বের সাথে নিজ উপার্জন করা টাকা দিয়ে কিনে দিতে পারবে উপহার। দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং শিল্প ছড়িয়ে যাবে বিশ্বে। কি অদ্ভুত সুন্দরই না হবে ব্যাপারটা!
লেখক- ফারহানা রাহা